Categories
জবস

NGO Forum for Public Health

Categories
দেশের খবর ধর্ম

ময়মনসিংহে ১২০০ বছর পর গায়েবি মসজিদে হঠাৎই আজানের সুর!

ময়মনসিংহে প্রায় ১২০০ বছর পূর্বের গায়েবি মসজিদে হঠাৎই আজানের সুর শুনতে পাওয়া যায়। কিছুদিন আগেও মসজিদটির চারপাশ ঘিরে ছিল জঙ্গল ও জীব-জন্তুর আবাসস্থল। দিন-দুপুরে ভয়ে কেউ যেত না, এটিকে জিনের মসজিদ তথা গায়েবি মসজিদ নামেও ডাকতো সবাই।

জেলার নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লী ইউনিয়নের নগরকুচুরী গ্রামে এই গায়েবি মসজিদের অবস্থান।

স্থানীয়রা জানান, তারা তাদের বাপ-দাদার তিন-চার পুরুষেও জানেন না মসজিদটি কীভাবে স্থাপিত হয়েছিল। তবে মুখে মুখে এটি একটি গায়েবি মসজিদ নামেই পরিচিত।

অনেকেই বলছেন আনুমানিক ১২০০ বৎসর পূর্বে এটি স্থাপিত হয়েছে। এটিকে জিনের মসজিদ তথা গায়েবি মসজিদ নামেও সবাই ডাকেন।

কেউ কেউ ধারণা করছেন, ওই গায়েবি মসজিদটি শাহ-সুলতান কমির উদ্দিন রুমী (রা.)-এর সময়কালে তাদের একজনেরই ধর্মীয় উপাসনালয় তথা সাধনার স্থান হিসেবে অলৌকিকভাবে স্থাপিত হয়েছিল মসজিদটি।

কথিত আছে, একজন বাকপ্রতিবন্ধী লোক জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে পড়লে মসজিদটির নির্মাণ কাজ দেখতে পায়, তখন সঙ্গে সঙ্গেই সে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এতে সবাই ধারণা করে যে বাকপ্রতিবন্ধী লোকটি তা দেখে ফেলায় গায়েবি মসজিদের বাকি কাজ বন্ধ করে দেয় জিনেরা।

এরপর বহু যুগ পেরিয়ে গেলেও সেখানে যাওয়ার কেউ চিন্তা করে না। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার কারণে ও জনবসতি বৃদ্ধি পাওয়া গাছ-পালা কেটে ফেলে জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়।

ফলে গত কয়েক মাস আগে হঠাৎই আজানের সুর ভেসে উঠে চারিদিকে এবং লোকজন দলে দলে আসে উক্ত মসজিদটিকে দেখতে ও জানতে।

পরে জানা গেছে, গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত অজানা প্রত্নতাত্ত্বিক এই পুরাতন ভবনে নিয়মিত নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করেছেন গ্রামের মানুষ। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাসখানেক ধরে উক্ত গায়েবি মসজিদটির সংস্কারসহ মসজিদের পাশেই একটি এতিমখানা (মাদ্রাসা) স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে।

দেখা যায়, বহু যুগ আগে প্লেটের মতো ১ ইঞ্চি পুরো ৭-৮ ইঞ্চি বর্গফুটের ইট দিয়ে করা হয়েছে ৩ ফুটেরও বেশি চওড়াবিশিষ্ট প্রতিটি দেওয়াল। যার গায়ে ইসলামী নিদর্শনের বিভিন্ন কারু-শিল্পকর্ম দেখা যায়।

মসজিদটির একপাশে দুটি বড় খোলা দরজা এবং অপর দুইপাশে রয়েছে ছোট ছোট দুটি সুরঙ্গের মতো দরজা। উপরে ছাদ ও ভিতরের মেঝেটি পাকা করা হয়নি।

তবে এরচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ভিতরে প্রবেশের তিনটি রাস্তায় কোনো ধরনের আলাদাভাবে দরজা ফিটিং করার মতো কোনো অবস্থান দেখতে পাওয়া যাইনি।

কিন্তু বর্তমানে এলাকাবাসী মসজিদের পুরাতন দেওয়ালের সঙ্গে ঘেঁষে কংক্রিটের পিলার দিয়ে উপরে টিনের ছাউনি দিয়েছেন এবং মসজিদের ভিতরে ও বাইরে নামাজ আদায় করতে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে পাকাকরণ করা হয়েছে।

সেখানে এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ জুমার নামাজ আদায় করার পাশাপাশি খতমে তারাবির নামাজও আদায় করা হচ্ছে।

উক্ত মসজিদ কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান রিপন জানান, সবার সহযোগিতায় মসজিদটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি এখানে প্রায় ৫০ শতক জমি থাকায় বিনামূল্যে ইসলামী শিক্ষাদান হিসেবে এতিমখানা ও নুরানি মাদ্রাসা চালু করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইফতেকার উদ্দিন ভূঁইয়া বিপ্লব জানান, গায়েবি মসজিদটি তথা প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়টি ধরে রাখতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেখানে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের পক্ষ থেকে ঢেউটিন অনুদান পাওয়া গেছে এবং কিশোরগঞ্জের মাওলানা আব্দুল হালিমের সহযোগিতায় কমির উদ্দিন রুমীর (রা.) নামে এতিমখানা ও নূরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসা স্থাপনের কাজ চলছে। সুত্রঃ যুগান্তর

Categories
ধর্ম

ময়মনসিংহে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ৬০ টাকা

ইসলামি অনুশাসনের এক অনন্য নির্দশন ফিতরা। সাদকাতুল ফিতর দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে বিধিবদ্ধ হয়। এটি অসহায় গরিব দুঃখীর ন্যয্য পাওনা। রমজান, ফিতরা ও ঈদ এক সূত্রে গাঁথা। ময়মনসিংহে এবছর জনপ্রতি সর্বনিম্ন ফিতরা ধরা হয়েছে ৬০ টাকা।

ময়মনসিংহ বড় মসজিদের পেশ ও খতিব মাওলানা আব্দুল হকের সভাপতিত্বে গত মাসেই ইত্তেফাকুল উলামা বৃহত্তর মোমেনশাহী কেন্দ্রীয় ফতোয়া বোর্ডের এক সভা জামিয়া ফয়জুর রহমান রহঃ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সভায় দীর্ঘ আলোচনা পর্যালোচনার পর এ বছরের ফিতরার পরিমাণ নির্ধারণ ও যাকাতের নেসাব ঘোষণা করা হয়।

জানা যায়, ১ কেজি ৬৫০ গ্রাম আটার মূল্য ৩৫ টাকা দর হিসেবে ৬০ টাকা। এছাড়া খেজুর ও কিসমিসের মূল্যে ফিতরা আদায় করতে চাইলে ৩ কেজি ৩০০গ্রাম খেজুরের মূল্য ২০০ টাকা কেজি হিসেবে ৬৬০ টাকা এবং ৩ কেজি ৩০০ গ্রাম কিসমিসের মূল্য ৩০০ টাকা কেজি হিসেবে ১০০০ টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় করা যাবে।

যাদের আর্থিক সচ্ছলতা আছে তারা খেজুর বা কিসমিসের মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করতে পারেন।

এছাড়াও বৈঠকে যাকাতের নেসাব রুপার ভরি ১৪০০ টাকা হিসেবে সাড়ে বায়ান্ন ভরির মূল্য ৭৩,৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

গত মাসে হওয়া এই বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় ফতোয়া বোর্ড সহ-সভাপতি মুফতি আহমদ আলী এবং সদস্যবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন, মুফতি রইসুল ইসলাম,মুফতি আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, মুফতি আব্দুল খালেক, মাওলানা আমিনুল হক, মুফতি নাজমুল হক,মুফতি কাসেদুর রহমান,মুফতি আমীর ইবনে আহমদ,মুফতি ইলিয়াস হাসান, মুফতি মুয়াজ আহমদ,মুফতি সাদেকুর রহমান ও মুফতি গোলাম মাওলা ভূঁইয়া প্রমুখ।

 

জাকাতুল ফিতর হচ্ছে কাফফারার মতো। যা ধনী-গরিব সকলেই আদায় করতে বাধ্য। হাদিসের পরিভাষা হচ্ছে- ‘প্রত্যেক স্বাধীন ও ক্রীতদাস বান্দার জন্য।’ (বুখারি ও মুসলিম)

Categories
জাতীয় ধর্ম

তারাবি নামাজের জামাতে সর্বোচ্চ ২০ জন

করোনাভাইরাসের সংক্রামণ ঊর্ধ্বগতি থাকায় যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ এবং রমজানে তারাবির নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

সোমবার (১২ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশে চলমান পরিস্থিতিতে এ নির্দেশনা জারি করে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ভয়াবহ মহামারি আকার ধারণ করায় যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ১৪ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত মসজিদে নামাজ আদায়ে নিম্নোক্ত নির্দেশনা জারি করা হলো:

 

ক. পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি ওয়াক্তে মসজিদে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

খ. তারাবির নামাজে খতিব, ইমাম, হাফেজ, মুয়াজ্জিন ও খাদিমসহ সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন।

গ. জুমার নামাজে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে মুসল্লিরা অংশগ্রহণ করবেন।

ঘ. সম্মানিত মুসল্লিদের পবিত্র রমজানে তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে মহান আল্লাহর রহমত ও বিপদ মুক্তির জন্য দোয়া করার অনুরোধ করা হলো।

 

স্থানীয় প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে উল্লিখিত নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Categories
দেশের খবর ধর্ম

মামুনুল হকের আগমনকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে পুলিশ-আয়োজক

সুনামগঞ্জের ছাতকে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের আগমন নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও ইসলামী সম্মেলনের আয়োজকরা।এতে ছাতকে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছাতকের জামিয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া দারুল কোরআন মৈশাপুর মাদ্রাসায় মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হকের আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহণ করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

আয়োজনকারীরা বলছেন, সব ধরনের বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে ইসলামী মহাসম্মেলন সফল করার লক্ষ্যে প্রস্ততি সম্পন্ন করা হয়েছে।তাকে সুরক্ষা দিতে স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরি করা হয়েছে।

তবে পুলিশ বলছে, বিতর্কিত মাওলানা মামুনুল হকের আসার বিষয়ে কোনো অনুমতি নেয়নি মাদ্রাসা কতৃপক্ষ। তাই কেউ আইন অমান্য করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ শনিবার উপজেলার জামিয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া দারুল কোরআন মৈশাপুর মাদ্রাসার ৪৩তম বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে মাওলানা মুহাম্মদ মামুনুল হক উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

এজন্য পোস্টার-ব্যানার টাঙিয়ে প্রচার-প্রচারণা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মৈশাপুর গ্রামে আয়োজনকারীদের সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে সার্বিক বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাজিম উদ্দিন।

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজ মাওলানা আব্দুস সামাদ বলেন, ‘ইসলামী মহাসম্মেলন সফল করার লক্ষে দুই শতাধিক যুবককে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে।সম্মেলনের সব প্রস্ততি সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে প্রশাসনের অনুমতি চাওয়া হয়েছে।’ স্থানীয় প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমোদন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী।

এ ব্যাপারে ওসি শেখ নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘মাদ্রাসার মাহফিল করতে কোনো বাধা বা নিষেধ নেই। তবে মাওলানা মামুনুল হক আসার বিষয়ে কোন অনুমতি নেই। অনুমতি ছাড়া যদি মামুনুল হক আসেন তাহলে সেটা আইনগতভাবে ব্যবস্থা করা হবে।’

উল্লেখ্য, মাওলানা মামুনুল হক রাজধানীর দোলাইখালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য স্থাপনে বিরোধিতা করে আলোচিত ও সমালোচিত হন। তিনি হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার পরপরই সংগঠনটির প্রয়াত আমির আল্লামা শাহ আজমদ শফির মৃত্যুর জন্য দায়ী করে অন্য ৩৫ জনের সঙ্গে তাকেও আসামি করা হয়।

Categories
ক্যাম্পাস জাতীয় শিক্ষা

প্রশ্নফাঁস : ঢাবি’র ৭ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ

প্রশ্নফাঁস ও ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাত শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের সভায় এ সুপারিশ করা হয়। ডিবির সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. একেএম গোলাম রব্বানী তথ্য নিশ্চিত করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- ফজলুল হক মুসলিম হলের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাকসুদুর রহমান, কবি জসিম উদ্দিন হলের আইন বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিজন আহমেদ, কুয়েত মৈত্রী হলের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার তামান্না, কবি জসিম উদ্দিন হলের ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শাহ মেহেদী হাসান, স্যার এ এফ রহমান হলের ইতিহাস বিভাগের ২০১৫-২০১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুহাইমিনুল ইসলাম, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের দর্শন বিভাগের ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম এবং অমর একুশে হলের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের ২০১৩-২০১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহেদ আহমেদ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তাদের বহিষ্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে প্রক্টর গোলাম রব্বানী বলেন, ২০১২-১৩ থেকে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন বিভাগে ভর্তি হওয়া এসব শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সিআইডি চার্জশিটের ওপর ভিত্তি করে ৭ জনকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা পরিষদ।

এছাড়া আরও দুইজনকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রশ্নফাঁস ও ভর্তি জালিয়াতিতে জড়িত থাকায় তিন দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, শৃঙ্খলা পরিষদ তাদেরকে স্থায়ী বহিষ্কারের সুপারিশ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সিন্ডিকেট সভায় তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

Categories
ক্যাম্পাস জাতীয় দেশের খবর শিক্ষা

একাদশে অনলাইনে ভর্তির কার্যক্রম শুরু

একাদশ শ্রেণিতে ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে অনলাইনে ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। রোববার সকাল ৭টা থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এবার কলেজে ভর্তি বিলম্বিত হয়েছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি জানিয়েছে, এবার শুধু অনলাইনে (www.xiclassadmission.gov.bd) ভর্তির আবেদন করা যাবে। দেশের সব সরকারি-বেসরকারি কলেজগুলোর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হতে আগামী ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

 

সব প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর কলেজগুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে বলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি জানিয়েছে।

শুধু অনলাইনে সর্বোচ্চ ১০টি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীর মেধা ও পছন্দক্রম অনুসারে তাকে নির্দিষ্ট কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হবে।

৯টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা বোর্ডের কোনো কোনো কলেজে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে এরই মধ্যে বোর্ডভিত্তিক সেই তালিকাও ওয়েবসাইটে (www.xiclassadmission.gov.bd) প্রকাশ করা হয়েছে।

 

এবার নগদ, সোনালী ব্যাংক, টেলিটক, বিকাশ, শিউর ক্যাশ ও রকেটের মাধ্যমে ১৫০ টাকা আবেদন ফি জমা দিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাবকমিটি জানিয়েছে, ৯ আগস্ট সকাল ৭টা থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেয়া হবে। ২৫ আগস্ট রাত ৮টায় প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে।

প্রথম তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের ২৬ থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কলেজের তালিকায় নাম আসবে ওই কলেজেই যে শিক্ষার্থী ভর্তি হবেন তা এসএমএসে নিশ্চিত করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চিত না করলে আবেদন বাতিল হবে।

 

৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেয়া হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল ৪ সেপ্টেম্বর রাত ৮টায় প্রকাশ করা হবে। ৫ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে।

৭ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হবে। ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টা পর্যন্ত তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে।

১৩ সেপ্টেম্বর রাতে কলেজভিত্তিক চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে। আর ১৩ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি হতে হবে।

Categories
ক্রিকেট জবস

কোচের চাকরি চেয়েও এতো বছরে পাননি রফিক

বাংলাদেশের ক্রিকেটের রুপকথার নায়ক মোহাম্মদ রফিক। তার অর্জন-কীর্তির কথা বলে শেষ করা যাবে না। কারও কারও চোখে মোহাম্মদ রফিক হলেন এ দেশের ক্রিকেটের ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা।’ মোহাম্মদ আশরাফুল যদি হন প্রথম আন্তর্জাতিক তারকা, তাহলে মোহম্মদ রফিক অতি অবশ্যই বাংলাদেশের ক্রিকেটের প্রথম আলোচিত চরিত্র।

 

তার ক্রিকেটার হবার গল্পটাই অন্যদের চেয়ে ভিন্ন। সেই বুড়িগঙ্গার ওপারে কেরানীগঞ্জের এক অজপাড়া গ্রামে বেড়ে ওঠা। প্রতিদিন নৌকায় করে শ্যামবাজার ঘাট দিয়ে এপারে আসা। তারপর নিজেকে গড়ার অদম্য স্পৃহা। প্রাণপন চেষ্টায় বাঁহাতি পেসার থেকে স্পিনার হয়ে ওঠা।

 

গেন্ডারিয়া ক্রিকেটার্সের হয়ে দ্বিতীয় বিভাগ ওরিয়েন্টের পক্ষে প্রথম বিভাগ খেলে অনেক চরাই উৎরাই পার হয়ে কঠিন লড়াই-সংগ্রামের পর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের বড় দল বিমানে নাম লেখানো। সেখান থেকে আরেক বড় দল মোহামেডানে যোগ দেয়া। তার পরপরই আন্তজাতিক ক্রিকেটার হিসেবে যাত্রা শুরু এবং নিজেকে মেলে ধরা, ৯৭’র আইসিসি ট্রফি বিজয়ের অন্যতম রুপকার হওয়া।

 

১৯৯৮ সালে কেনিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্ট জয়েরও অন্যতম রুপকার। প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারি।দেশের বোলারদের ভিতরে সবার আগে টেস্ট-ওয়ানডেতে ১০০ উইকেট শিকারিও তিনি। সব মিলে একজন আদর্শ বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার মোহাম্মদ রফিক।

 

শুধু স্পিনার বলা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের প্রথম ওয়ানডে জয়ের নায়ক রফিক ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ বোলারদের শাসন করে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংস উপহার দিয়ে হয়েছেন ম্যাচ সেরা। নিচের দিকে নেমে নিয়মিত বড় শট খেলার সামর্থ্য ছিল তার। সবসময়ই মেরে খেলতে পারতেন। যেটা এখনও বাংলাদেশের নিচের ব্যাটসম্যানদের বড় সমস্যা। রফিক সেখানে ছিলেন সাহসী যোদ্ধা। উইলোর দাপটে চার-ছক্কা হাঁকাতে পারতেন অবলীলায়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট শতকের অসামান্য কৃতিত্বও আছে তার।

 

সব মিলে এক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার। সফল ক্রিকেটারের মূর্ত প্রতীক রফিক। অর্জন-কৃতিত্ব ধরলে অবশ্যই এগিয়ে সাকিব আল হাসান। তবে দেশ-বিদেশে অনেক বোদ্ধা-বিশেষজ্ঞর চোখে রফিকই বাংলাদেশের সব সময়ের সেরা বাঁহাতি স্পিনার। ন্যাচারাল ট্যালেন্ট বলতে যা বোঝায় রফিক ছিলেন তাই।

 

অনেকেরই ধারণা, বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের আদর্শ হতে পারেন রফিক। বিশেষ করে যারা স্পিন বোলিং করেন, তাদের আদর্শ গুরু ও মেন্টর হওয়ার সব যোগ্যতাই আছে রফিকের। তাকে জাতীয় দল, এইচপি কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্পিন বোলিং কোচের দায়িত্ব দিলে স্পিনারদের উন্নতিটা আরও দ্রুত হতো- এমন বিশ্বাস অনেকের।

 

অনেক বেশি অর্থ দিয়ে ভিনদেশি কোচ, স্পিন উপদেষ্টা নিয়োগ দেয়া হয়। কিন্তু বেশিরভাগের আউটপুট নেই। সবচেয়ে বড় কথা তাদের ইংরেজি একসেন্ট দেশের তরুণ প্রজন্ম আত্মস্থ করতে পারছেন কি না?- তা খুঁটিয়েও দেখা হয় না।

 

সেখানে রফিক নিজেদের মাতৃভাষায় তরুণদের স্পিনের নানা কারুকাজ শেখাতে পারেন। প্রয়োজনীয় বুদ্ধি পরামর্শ দিতে পারেন এবং নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে নাঈম হাসান, মেহেদি হাসান মিরাজ, সানজামুল ইসলাম ও নাজমুল অপুদের আরও উন্নত করার মত মেধা-প্রজ্ঞা আছে তার। কিন্তু দেশের স্পিনের সেই রত্ন-রফিক কোথাও নেই।

 

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে রফিক যে ইচ্ছে প্রকাশ করেছিলেন, তা আজ পর্যন্ত পূরণ হয়নি। রফিক অবসরের সময় বলেছিলেন, আমি মাঠের মানুষ, মাঠেই থাকতে চাই। কোচিং থেকে শুরু করে না হয় কিউরেটরের কাজ করে হলেও ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িয়ে থাকার ইচ্ছে রাখি। কিন্তু তার সে আশা পূরণ হয়নি। আজ পর্যন্ত বিসিবির বেতনভুক্ত কোচ হতে পারেননি রফিক।

 

এ দেশবরেন্য ও আন্তর্জাতিক মানের বাঁহাতি স্পিনারের এখনও রয়ে গেছে সেই আক্ষেপ। শুক্রবার রাতে নটআউট নোমানের ইউটিউব লাইভে তিনি বলেছেন, ‘কত বছর ধরে ক্রিকেট থেকে রিটায়ার্ড করেছি। কিন্তু ক্রিকেটে কোন জব করতে পারছি না। অনেকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কতজনকে বলছি, রিকুয়েস্ট করেছি। কিন্তু কেউ আমাকে কোন কাজ দেয়নি। আশ্বাস দিয়ে বলেছে, ঠিক আছে আমরা ব্যস্ত আছি। পরে বলবো, পরে বলবো- পরে বলতে বলতে তো ১২ বছর চলে গেলো। শেষপর্যন্ত আমার আর ক্রিকেট বোর্ডে কোন কোচের চাকরি হয়নি।’

 

‘আমি তো আর কারো দান-দয়া চাচ্ছি না। আল্লাহর রহমতে শরীর সুস্থ আছে। আমি এখনও ফিট আছি। আল্লাহর রহমতে শরীরে শক্তি আছে। আমি বিশ্বাস করি ক্রিকেটের জন্য কাজ করেই উপার্জন করতে পারব এবং আমি কোন আকাশ ছোঁয়া ডিমান্ডও নেই আমার। আমার কাজ অনুপাতেই যেন অর্থ দেয়া হয় আমাকে।’

 

রফিকের শেষ কথা, ‘আমরা কিন্তু অবসরের পর মনে হয় সেই ওসমান ভাইয়ের অবস্থায়ই আছি। আমাদেরও কোন কদর নেই। যথাযথ মূল্যায়নের অভাব। আজকে দেখেন, কত বছর ধরে অবসর নেয়ার পরও বোর্ডের কোন কোচের চাকরি পাইনি। দেখা যাচ্ছে, ওসমান ভাই-আলতাফ ভাইদের (দেশের সাবেক কোচ) জীবনের মতই আমাদের অবস্থা হয়েছে।’

Categories
ক্যাম্পাস জাতীয় দেশের খবর শিক্ষা সকল বিভাগ

একদিকে পেছাচ্ছে পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ কার্যক্রম অন্যদিকে কলেজ ভর্তি

মহামারির করোনাভাইরাস এর কারণে আটকে গেছে উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি এবং নতুন পাঠ্যবই মুদ্রণ ও রচনা কার্যক্রম। রোববার (৭ জুন) থেকে অনলাইনে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ড থেকে প্রস্তাব করার হলেও তা হচ্ছে না। তবে এই কার্যক্রম আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি শুরু হতে পারে বলে জানা গেছে।

 

অন্যদিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে থাকা একাদশ শ্রেণির চারটি বই বিক্রির লক্ষ্যে দরপত্র কার্যক্রম এখন পর্যন্ত শুরুই করা হয়নি। এ চারটির মধ্যে এবার একটি নতুন করে বাজারে যাওয়ার কথা। বইটি রচনার কাজও শেষ হয়নি। মূলত করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে ভর্তি কার্যক্রম ও পাঠ্যবই তৈরির কাজ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আন্তঃশিক্ষা সমন্বয়ক বোর্ডের সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির মধ্যে একদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে না। তবে আমাদের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।’

 

তিনি বলেন, আগামী ৭ জুন থেকে অনলাইনে ভর্তি শুরু করতে মন্ত্রণালয়কে প্রস্তাব পাঠানো হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ভর্তি শুরু করা ঠিক হবে না।

 

অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, ‘ভর্তি কার্যক্রম অনলাইনে হলেও অনেক শিক্ষার্থী বাড়ির বাইরে বের হয়ে কম্পিউটার দোকানে, বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে ভিড় করে আবেদন করার চেষ্টা করবে। এতে করে ভাইরাসে সংক্রমণ হওয়ার সম্ভবনা তৈরি হবে। যেহেতু ভর্তি হলেও ক্লাস শেষ শুরু হচ্ছে না তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উচ্চ মাধ্যমিকের ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে।’

তবে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হতে পারে। আর ক্লাস শুরু হতে পারে সেপ্টেম্বরে।

 

এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ জন শিক্ষার্থী। গতবছর পাস করেছিল ১৭ লাখ ৪৯ হাজার ১৬৫ জন। গতবছর ভর্তি না হওয়া প্রায় আড়াই লাখ ছাত্রছাত্রী আছে। সে অনুযায়ী এবার কলেজ, মাদরাসা এবং কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ১৯ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর ভর্তি হওয়ার কথা।

 

তবে সাধারণ যে সংখ্যক শিক্ষার্থী পাস করে তার অর্ধেক সংখ্যক বই ছাপানো হয়। বাকিরা পুরাতন বই পড়ে থাকে বলে ধরে নেয়া হয়। সেই হিসাবে এবার মোট ৯ লাখ করে চারটি বইয়ে ৩২ লাখ কপি ছাপানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

 

জানা গেছে, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের ৩৯টি বই আছে। এর মধ্যে এতদিন তিনটি বই বাজারজাত করে আসছিল সরকার। দরপত্রের মাধ্যমে আগ্রহী প্রকাশকদের বাজারজাতের কাজ দেয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। বিনিময়ে ১১ শতাংশ হারে রয়্যালটি নেয় সরকার। চলতি বছর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) নামের বইটিও সরকারিভাবে বাজারজাত করার সিদ্ধান্ত আছে।

 

সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্য ৩৬টির সঙ্গে এতদিন আইসিটি গ্রন্থটিও বেসরকারি প্রকাশকরা সরকারি কারিকুলামের আলোকে প্রণয়ন করে এনসিটিবি থেকে অনুমোদন নিতেন। কিন্তু আইসিটি গ্রন্থটি কারিকুলামের সঙ্গে ততটা মিল নেই। বিশেষ করে একেক প্রকাশক একেকভাবে গ্রন্থটি রচনা করেছেন। আবার অনেকে গ্রন্থটি দুর্বোধ্য করে রচনা করেছেন। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনেও আলোচনা হয়েছে। এরপরই গ্রন্থটি সরকারিভাবে রচনা ও বাজারজাতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

 

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্যান্য কাজের মতো একাদশ শ্রেণির পাঠ্যবইয়ের দরপত্রের কাজ কিছুটা ধীরগতিতে এগোচ্ছে। তবে আগামী সপ্তাহে এ নিয়ে কাজ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর যে গ্রন্থটি এবার সরকারিভাবে বাজারজাত করার কথা সেটি রচনার কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে। ডিসি সম্মেলনে বইটির মান নিয়ে আপত্তি উঠায় সরকারিভাবে প্রণয়ন ও বাজারজাতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

 

তিনি বলেন, এবার এখন পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়নি। এজন্য হয়তো কাজ শেষ করার ক্ষেত্রে আরও কিছুটা সময় পাওয়া যেতে পারে।

 

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, অন্যান্য বছর গড়ে একমাস সময় দেয়া হয় বই মুদ্রণ ও বাজারজাতের জন্য। সর্বশেষ গতবছর ১৩ দিন সময় দেয়া হয়েছিল। সেই হিসাবে একাধিক প্রকাশককে কাজ দেয়া হলে দুই সপ্তাহে বই ছাপানো ও বাজারজাত করা সম্ভব বলে মনে করেন এনসিটিবির কর্মকর্তারা।

 

তবে প্রকাশকরা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে এবার বৈরী অবস্থা বিরাজ করছে। শ্রমিক সংকট আছে। বইয়ের কাঁচামাল কাগজ, কালি ও অন্যান্য সামগ্রী কেনাবেচা স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। বাঁধাই শ্রমিকেরও সংকট আছে। সবমিলিয়ে বইয়ের কাজ শেষ করতে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার সময় কিছুটা বেশি লাগবে। তারা বলছেন, সেই হিসাব করেই এবার বইয়ের মুদ্রণ প্রক্রিয়া শুরু করা প্রয়োজন।

ফাইল ছবি

Categories
শিক্ষা সকল বিভাগ

এসএসসির ফল প্রকাশ ৩১ শে মে

আগামী ৩১ শে মে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হবে।
১০ ই মে সকাল ১০ টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে  পরীক্ষার ফলাফল ও পরিসংখ্যান প্রকাশ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক পত্রের মাধ্যমে উল্লেখিত তারিখ ও সময় নিশ্চিত করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (২১ মে)।

গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৯ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ৫ মার্চ শেষ হয়।

পরীক্ষার পর ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ছুটির কারণে সেটা সম্ভব হয়নি।

এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন।