Categories
দেশের খবর

ময়মনসিংহে নকল প্রসাধনী উৎপাদনের দায়ে জরিমানা, ১০ লাখ টাকার নকল প্রসাধনী জব্দ

ময়মনসিংহে নকল প্রসাধনী উৎপাদন ও সংরক্ষণের দায়ে এক অসাধু ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এসময় তার কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার নকল প্রসাধনী জব্দ করা হয়।

জেলার ভালুকা পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের ওয়াবদার মোড়ে গাজী লুৎফর রহমান (৪০) নামে এই অসাধু ব্যবসায়ী ভাড়া বাসায় এসব প্রসাধনী উৎপাদন ও বিক্রি করতেন। তিনি  মাদারীপুরে ডাসা উপজেলার গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলে।

শনিবার (৮ মে) বিকেল ৫টার দিকে ভালুকা পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের ওয়াবদার মোড়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাইন উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ দণ্ড দেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা থানার এসআই মো. ইকবাল হোসেন, এসআই মো. মতিউর রহমান, এসআই মো. আতাউর রহমান প্রমুখ।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ লাখ টাকার নকল প্রসাধনী জব্দ করা হয়। এসময় ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের জেল দেয়া হয়।

Categories
দেশের খবর

ময়মনসিংহে পুলিশকে চাঁদা দিয়ে না খেয়ে রোজা রাখলেন রিকশাওয়ালা

ময়মনসিংহের ভালুকায় ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে এক রিকশাচালকের কাছ থেকে ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একদিনের রোজগারের টাকা নিয়ে যাওয়ায় পরদিন না খেয়েই রোজা রাখতে হয়েছে শামীম নামের ভুক্তভোগী ওই রিকশাচালককে।

এ ঘটনায় ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

স্ট্যাটাজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ফুটওভার ব্রিজের পাশে ইউটার্নে।

তার স্ট্যাটাসে জানা যায়- রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সিডস্টোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তিনি দেখেন পার্শ্ববর্তী উপজেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার গাড়াজান পণ্ডিতবাড়ি গ্রামের মৃত মহর আলীর ছেলে রিকশাচালক শামীম অটোরিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

লোকটি এসে চেয়ারম্যানকে বলল কোথায় যাবেন? চেয়ারম্যান বললেন, না এখানেই, চেয়ারম্যান যে ভালুকা যাবেন তা বলেননি।

তখন চেয়ারম্যান ওই অটোরিকশা চালককে জিজ্ঞেস করেন, এত রাতে কি যাত্রী পাওয়া যায়? লোকটি বলল রোজা থেকে সারাদিন রিকশা চালাতে পারি না। তাই রাতেই যা পাই তা দিয়ে সংসার চালাই আর অটোরিকশার কিস্তি দিতে হয়।

তবে স্যার কী করব, গত মঙ্গলবার রাতে ৬০০ টাকা ইনকাম হয়েছিল। কয়েকজন পুলিশকে থানার সামনে নামিয়ে দিয়ে যখন আমি ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ইউটার্ন নেই ঠিক সেই সময় হাইওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আমাকে থামায় আর বলে আমার অটোরিকশাটি তারা নিয়ে যাবে।

একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশ এক হাজার টাকা দাবি করে।

এরপর অটোরিকশার চালক শামীম অনেক কাকুতি-মিনতি করে হাইওয়ে পুলিশকে বলে স্যার আমি সারাদিন রোজা থেকে কাজ করতে পারি না। তাই ইফতারের পর থেকে ৬শ’ টাকা পেয়েছি। টাকা দিয়ে চাল ও ঢাল কিনব, কিন্তু কোনো কথাই তারা শুনল না।

শেষপর্যন্ত আমার কাছে আগের ১০০ টাকা ছিল আর ইনকামের ৬০০ টাকাসহ মোট ৭০০ টাকা হাইওয়ে পুলিশকে দিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ে খালি হাতে বাসায় যাই।

পরে না খেয়ে রোজা রেখে আজকেও আবার পেটের দায়ে এত রাতে আছি স্যার। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের প্রশ্ন হলো- আমরা কোথায় বসবাস করি?

ফেসবুক স্ট্যাটাসের মন্তব্য কলামে অনেকেই লেখেন- হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে রিকশা, অটোভ্যান, হাইওয়ে মিনি, প্রাইভেটকার, মাইক্রেবাস চালকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, ঘটনার রাতে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডিউটি ছিল এপিএসআই আবু তাহেরের। আমি যোগদান করার পর আমার লোকজনকে বলে দিয়েছি তার যেন কোনো রিকশাওয়ালাকে অযথা হয়রানি না করেন।

তারপরও যদি কেউ এ জাতীয় ঘটনা করে থাকে তাহলে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুত্রঃ যুগান্তর

Categories
দেশের খবর

ভালুকায় করোনা আক্রান্ত হওয়া অর্ধেকই পোশাক শ্রমিক

য়মনসিংহে নভেল করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গতকাল পর্যন্ত এ জেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮৫০ জন। আক্রান্তের দিক দিয়ে পুরো জেলায় দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ভালুকা। এ উপজেলায় আক্রান্তের অর্ধেকই পোশাক শ্রমিক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পোশাক কারখানাগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে শ্রমিকরা যাওয়া-আসার পথে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। এ ব্যাপারে শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে।

জানা গেছে, ময়মনসিংহের ১৩টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, ৩৬০ জন। এর পরই ভালুকার অবস্থান। গতকাল পর্যন্ত এ উপজেলায় ১৫৪ জনের শরীরে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিক রয়েছেন ৮২ জন, যা মোট সংক্রমিতের ৫৩ শতাংশ। শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিনই এ উপজেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গত বুধবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের পিসিআর পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষায় ভালুকায় নতুন করে আরো ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ জনই কারখানা শ্রমিক।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভালুকা উপজেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় গত ১৯ এপ্রিল। এরপর ৪৮ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ জনে পৌঁছায়। ওই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে পোশাক শ্রমিক ছিলেন মাত্র তিনজন। পরের তিনদিনেই আরো ৫১ জনের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়, যার ৩৬ জন পোশাক কর্মী। আর এর পরের দুইদিনে শনাক্ত হয় ৫৩ জনের। এদের মধ্যে কারখানা শ্রমিক ৪৩ জন।

সূত্র আরো জানায়, ৪ জুন থেকে উপজেলার কারখানাগুলোয় ব্যাপকভাবে করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হতে থাকে। ওইদিন তিনজন নারীর করোনা শনাক্ত হয়। তিনজনই পোশাক শ্রমিক। পরদিন উপজেলায় ১৯ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে আটজন পোশাক কারখানার শ্রমিক। তারা সবাই স্কয়ার ফ্যাশন কারখানায় কাজ করেন। এরপর ৬ জুন উপজেলায় ১১ জনের করোনা শনাক্ত হয়, যাদের আটজনই ছিলেন পোশাককর্মী। তারা এসকিউ ও স্কয়ার ফ্যাশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত। ৭ জুন করোনা শনাক্ত হওয়া ২১ জনের মধ্যে ২০ জনই তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক। গত মঙ্গলবার উপজেলায় সর্বোচ্চ ৩৫ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়। এদের মধ্যে ২৭ জন কারখানা শ্রমিক।

এ বিষয়ে স্কয়ার ফ্যাশনের কর্মকর্তা (অ্যাডমিন) মো. রফিক বলেন, কারখানার ভেতরে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই কাজ করানো হচ্ছে। স্কয়ার ফ্যাশনে সাড়ে ১১ হাজার শ্রমিক দুই শিফটে কাজ করতেন। এখন সেখানে ছয়টি শিফটে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। আবাসিক দুই হাজার শ্রমিক রয়েছেন। সেখানে কিন্তু একজন শ্রমিকও আক্রান্ত হননি। আমাদের যে ৪০ জন শ্রমিক আক্রান্ত হয়েছেন, তাদের সঙ্গে প্রতিদিন দুবার করে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ভালুকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাসুদ কামাল বলেন, গত দুইদিনেই এ উপজেলায় করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৩ জন। উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৪ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১০ জন ও একজনের মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, পোশাক কারখানার ভেতরে শ্রমিকদের দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করানোর চেষ্টা করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু আসা-যাওয়ার পথে স্বাস্থ্যবিধি মানেন না শ্রমিকরা। ফলে উপজেলার শিল্প-কারখানাগুলোয় প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমিতের সংখ্যা।

সূত্রঃ বণিক বার্তা

Categories
দেশের খবর

ভালুকায় জমি নিয়ে বিরোধে ১০ লক্ষ পোনা মাছ নিধন

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় জমি সংক্রন্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এক ফিশারিতে বিষ প্রয়োগে ১০ লক্ষ পোনা মাছ মরে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার উত্তর রাংচাপড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটার পর ফিশারির কেয়ারটেকার আশরাফ উদ্দিন আশু বাদি হয়ে ভালুকা মডেল থানায় অভিযোগ করেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় শফিকুল ইসলাম সাঈদ মালিকানাধীন রাংচাপড়া মৌজার ৩৪ ও ৩৬ নং দাগে ৮১ শতাংশ জমিতে পুকুর খনন করে মাছের চাষ করে আসছে। ওই জমি নিয়ে ফিশারি মালিকের সঙ্গে পৌর এলাকার সাজ্জাদ হোসেনের বিরোধ চলছিল। শনিবার দুপুরে প্রকাশ্যে স্থানীয় কয়েকজনের সামনে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে ওই ফিশারিতে বিষ প্রয়োগ করে সাজ্জাদ হোসেন। পরে কেয়ারটেকারের চিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে সাজ্জাদ হোসেন দৌঁড়ে পালিয়ে যায়।

ফিশারির মালিক শফিকুল ইসলাম সাঈদ বলেন, ‘জমির কোন প্রকার কাগজ পত্র দেখাতে না পারলেও ক্ষমতা দেখিয়ে জমি দখলের জন্য দির্ঘদিন যাবৎ আমাকে নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার চেষ্টা করছে সাজ্জাদ।’

এদিকে সাজ্জাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাইন উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টা অমানবিক। অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সূত্রঃ ঢাকা টাইমস