Categories
দেশের খবর

নেত্রকোনায় সন্তান বিক্রির সময় বাবাসহ আটক ৩

নেত্রকোনায় স্ট্যাম্পে দলিল করে সন্তান বিক্রির চেষ্টা করার সময় দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শিশুটির বাবা আহাদকেও আটক করে পুলিশ।

রোববার দুপুরে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতাল রোডের জয়নগর এলাকা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- নেত্রকোনা জেলা শহরের কুরপাড় এলাকার মামুন মিয়ার স্ত্রী রওশনা আক্তার ডলি (৩৫), মোক্তারপাড়ার কাশেম মিয়ার স্ত্রী নিপা আক্তার (৩৮)। ঘটনাস্থল থেকে সদর উপজেলার মদনপুরের কাংশাবাড়ি গ্রামের আবদুল মান্নানের স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪০) কৌশলে পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, নেত্রকোনা জেলা শহরের জয়নগর এলাকায় কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে আহাদ-রিপা দম্পতির অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে এক ছেলে সন্তান জন্ম হয়। সেই হাসপাতালের খরচ ও নগদ তিন লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটি কেনার প্রস্তাব দেন কুরপাড় এলাকার মামুন মিয়ার স্ত্রী রওশনা আক্তার ডলি।

বিষয়টি আহাদের স্ত্রী ও অন্যান্য সদস্যদের অবগত করলে তারা গণমাধ্যমকর্মী ও প্রশাসনকে অবগত করেন। পরে শিশুটির বাবা আহাদের সহযোগিতায় দুইজনকে শনিবার দুপুরে জয়নগর এলাকা থেকে আটক করে পুলিশ।

নেত্রকোনা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফুল হক জানান, শিশুটিকে বিক্রি করার চেষ্টা করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে শিশুটির বাবাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Categories
দেশের খবর

ময়মনসিংহে ৪ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার ৩

ময়মনসিংহ শহরের ঢাকা বাইপাস এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৪ কেজি গাঁজাসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪।

৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১ টায় র‌্যাব-১৪ এর সহকারী পরিচালক মোঃ আনোয়ার হোসেন এর নেতৃত্বে একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের  অভিযান পরিচালনা করে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হল – মোঃ ইব্রাহিম (৩৫), মোঃ মহিউদ্দিন (২২), মোঃ সাজ্জাদ আহম্মদ (৩৮)। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তারা দীর্ঘদিন যাবত ময়মনসিংহ শহর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় করে আসছে।

এই ঘটনার বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীদের ময়মনসিংহ জেলার কোতোয়ালী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে নিয়মিত মামলার মাধ্যমে সোপর্দ করা হয়েছে।

Categories
দেশের খবর

ময়মনসিংহে নকল সোনার বারসহ গ্রেফতার ১

ময়মনসিংহ নগরীর ঢাকা বাইপাস মোড় এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ৩ টি নকল স্বর্ণ বার, ইলেকট্রিক ড্রিল মেশিন, লিফলেট, সিএনজি ও মোবাইল সহ মোঃ রিপন মিয়া (৩৫) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৪ ।

রবিবার বিকালে র‌্যাব-১৪ এর মেজর আখের মুহম্মদ জয় ও এএসপি তাসলিম হুসাইন এর নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালনা করেন।

র‌্যাব জানায়, মোঃ রিপন মিয়া ত্রিশাল উপজেলার বাড়ীরগাঁও গ্রামের মোঃ মোকলেছুর রহমান ছেলে। গ্রেফতার সময় রিপনের কাছ থেকে একটি সিএনজি, ৬১ গ্রাম ওজনের তিনটি নকল সোনার বার(পিতলের),  দুইটি ছোট লিফলেট, ১টি ইলেকট্রিক ড্রিল মেশিন, ২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয় যা প্রতারণার কাজে ব্যবহার করত সে, এব্যাপারে র‌্যাব-১৪ এর পক্ষ থেকে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

র‌্যাবকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, রিপন দীর্ঘ দিন যাবৎ ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় সে নিজে তামার জিনিষ ইলেকট্রনিক ড্রিল মেশিন দ্বারা কেটে নিজে তৈরি করে মানুষের নিকট কম দামে স্বর্ণ বলে বিক্রি করে আসছে।

Categories
দেশের খবর

সিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ : প্রশাসন ক্যাডারের সুদক্ষ কর্মকর্তা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোঃ খলিলুর রহমানকে সিলেট বিভাগের নতুন বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।

মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখার উপ-সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ গত ৯ মে স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগদেশ দেয়া হয়। জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

দেশের ঐতিহ্যবাহী জেলা ময়মনসিংহ ও নাটোরের জেলা প্রশাসক হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন মোঃ খলিলুর রহমান।

প্রশাসন ক্যাডারের চৌকস কর্মকর্তা এছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব, উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে গাজীপুরের কালিগঞ্জ এবং নওগাঁর বদলগাছি সহ বিভিন্ন স্থানে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

দেশ ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানী, ফ্রান্স, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশে^র বিভিন্ন দেশ নানা প্রশিক্ষণে অংশ গ্রহন করেছেন মোঃ খলিলুর রহমান।

Categories
দেশের খবর

দেশের একজন মানুষও অনাহারে থাকবে না: মেয়র টিটু

ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. ইকরামুল হক টিটু বলেন, প্রধানমন্ত্রী অসহায়-দরিদ্র-কর্মহীন মানুষকে ভালো রাখতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। খাদ্য, ত্রাণ, নগদ সহায়তার মাধ্যমে করোনার এই দুর্যোগময় সময়ে মানুষকে ভালো রাখার চেষ্টা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের একটি মানুষও অনাহারে থাকবে না।

রোববার দুপুরে নগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি মিলনায়তনে ৫ হাজার অসহায়, দরিদ্র, কর্মহীন পরিবারের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ‘শিশু খাদ্য’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে এ কথা বলেন ময়মনসিংহ সিটি মেয়র।

এর আগে, মেয়র সিটি কর্পোরেশনের পুরাতন ভবন প্রাঙ্গণে ত্রাণ বিতরণ করেন।

 

 

নাগরিকদের প্রতি আহবান রেখে সিটি মেয়র বলেন, করোনা সংক্রমণ বিস্তার বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর খাদ্য উপহার দিচ্ছেন যেন আপনারা ঘরে থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারেন। তাই ঘরে থাকুন। প্রয়োজনে বাইরে গেলে মাস্ক পরিধান করুন, সামাজিক দুরত্ব বজায়ে রাখুন।

ত্রাণ সামগ্রী বিতরণকালে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, প্যানেল মেয়র আসিফ হোসেন ডন, মাহবুবুর রহমান দুলাল, শামিমা আক্তার, সিটি কর্পোরেশনের ত্রাণ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. নিয়াজ মোর্শেদ, সচিব রাজীব কুমার সরকার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিল আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Categories
দেশের খবর

ময়মনসিংহে নকল প্রসাধনী উৎপাদনের দায়ে জরিমানা, ১০ লাখ টাকার নকল প্রসাধনী জব্দ

ময়মনসিংহে নকল প্রসাধনী উৎপাদন ও সংরক্ষণের দায়ে এক অসাধু ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়। এসময় তার কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকার নকল প্রসাধনী জব্দ করা হয়।

জেলার ভালুকা পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের ওয়াবদার মোড়ে গাজী লুৎফর রহমান (৪০) নামে এই অসাধু ব্যবসায়ী ভাড়া বাসায় এসব প্রসাধনী উৎপাদন ও বিক্রি করতেন। তিনি  মাদারীপুরে ডাসা উপজেলার গাজী গোলাম মোস্তফার ছেলে।

শনিবার (৮ মে) বিকেল ৫টার দিকে ভালুকা পৌর শহরের ৮নং ওয়ার্ডের ওয়াবদার মোড়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাইন উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ দণ্ড দেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ভালুকা থানার এসআই মো. ইকবাল হোসেন, এসআই মো. মতিউর রহমান, এসআই মো. আতাউর রহমান প্রমুখ।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১০ লাখ টাকার নকল প্রসাধনী জব্দ করা হয়। এসময় ব্যবসায়ীকে এক লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে তিন মাসের জেল দেয়া হয়।

Categories
দেশের খবর

ময়মনসিংহে পর্নোগ্রাফি ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জন আটক

ময়মনসিংহে পর্নোগ্রাফি ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৪ জনকে আটক করেছে র‌্যাব। এ সময় পর্নোগ্রাফি ব্যবসার কাজে ব্যবহৃত তিনটি ডেস্কটপ কম্পিউটার, পাঁচটি স্পিকার, ছয়টি কার্ড রিডার ও অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

মঙ্গলবার (৪ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার চুরখাই বাজার থেকে তাদের আটক করা হয়। ময়মনসিংহ র‌্যাব ১৪ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

আটকরা হলেন-মো. ইউসুফ আলীর ছেলে মো. সুজন মিয়া (২৩), মো. গফুর মিয়ার মো. আনোয়ার হোসেন (২৬), মৃত সাহেব আলীর ছেলে মো. হৃদয় (২১), মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. বাদশা মিয়া। তারা সবাই সদর উপজেলার চুরখাই এলাকার বাসিন্দা।

র‌্যাব ১৪-এর সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসাইন বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব ১৪-এর একটি দল সদর উপজেলার চুরখাই বাজারের তৈয়ব মার্কেটের সুজন কম্পিউটার, আনোয়ার কম্পিউটার এবং বাজারের মফিজ মার্কেটের বাদশা কম্পিউটার নামক দোকানে অভিযান চালায়। এসময় ওই তিনজনকে আটক করা হয়।

তিনি আরও বলেন, আটকরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এসব দোকান ভাড়া নিয়ে পর্নোগ্রাফি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। আটকদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Categories
দেশের খবর

ময়মনসিংহে পুলিশকে চাঁদা দিয়ে না খেয়ে রোজা রাখলেন রিকশাওয়ালা

ময়মনসিংহের ভালুকায় ভরাডোবা হাইওয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে এক রিকশাচালকের কাছ থেকে ৭০০ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একদিনের রোজগারের টাকা নিয়ে যাওয়ায় পরদিন না খেয়েই রোজা রাখতে হয়েছে শামীম নামের ভুক্তভোগী ওই রিকশাচালককে।

এ ঘটনায় ভালুকা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে বুধবার রাত আড়াইটার দিকে একটি স্ট্যাটাস দেন।

স্ট্যাটাজটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুহূর্তেই ভাইরাল হয়। এ নিয়ে চলছে নানা সমালোচনা।

ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার গভীর রাতে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ফুটওভার ব্রিজের পাশে ইউটার্নে।

তার স্ট্যাটাসে জানা যায়- রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সিডস্টোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় তিনি দেখেন পার্শ্ববর্তী উপজেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার গাড়াজান পণ্ডিতবাড়ি গ্রামের মৃত মহর আলীর ছেলে রিকশাচালক শামীম অটোরিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন।

লোকটি এসে চেয়ারম্যানকে বলল কোথায় যাবেন? চেয়ারম্যান বললেন, না এখানেই, চেয়ারম্যান যে ভালুকা যাবেন তা বলেননি।

তখন চেয়ারম্যান ওই অটোরিকশা চালককে জিজ্ঞেস করেন, এত রাতে কি যাত্রী পাওয়া যায়? লোকটি বলল রোজা থেকে সারাদিন রিকশা চালাতে পারি না। তাই রাতেই যা পাই তা দিয়ে সংসার চালাই আর অটোরিকশার কিস্তি দিতে হয়।

তবে স্যার কী করব, গত মঙ্গলবার রাতে ৬০০ টাকা ইনকাম হয়েছিল। কয়েকজন পুলিশকে থানার সামনে নামিয়ে দিয়ে যখন আমি ভালুকা বাসস্ট্যান্ড ইউটার্ন নেই ঠিক সেই সময় হাইওয়ে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আমাকে থামায় আর বলে আমার অটোরিকশাটি তারা নিয়ে যাবে।

একপর্যায়ে হাইওয়ে পুলিশ এক হাজার টাকা দাবি করে।

এরপর অটোরিকশার চালক শামীম অনেক কাকুতি-মিনতি করে হাইওয়ে পুলিশকে বলে স্যার আমি সারাদিন রোজা থেকে কাজ করতে পারি না। তাই ইফতারের পর থেকে ৬শ’ টাকা পেয়েছি। টাকা দিয়ে চাল ও ঢাল কিনব, কিন্তু কোনো কথাই তারা শুনল না।

শেষপর্যন্ত আমার কাছে আগের ১০০ টাকা ছিল আর ইনকামের ৬০০ টাকাসহ মোট ৭০০ টাকা হাইওয়ে পুলিশকে দিয়ে অটোরিকশাটি নিয়ে খালি হাতে বাসায় যাই।

পরে না খেয়ে রোজা রেখে আজকেও আবার পেটের দায়ে এত রাতে আছি স্যার। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের প্রশ্ন হলো- আমরা কোথায় বসবাস করি?

ফেসবুক স্ট্যাটাসের মন্তব্য কলামে অনেকেই লেখেন- হাইওয়ে পুলিশের বেপরোয়া চাঁদাবাজির কারণে রিকশা, অটোভ্যান, হাইওয়ে মিনি, প্রাইভেটকার, মাইক্রেবাস চালকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ওসি মশিউর রহমান জানান, ঘটনার রাতে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ডিউটি ছিল এপিএসআই আবু তাহেরের। আমি যোগদান করার পর আমার লোকজনকে বলে দিয়েছি তার যেন কোনো রিকশাওয়ালাকে অযথা হয়রানি না করেন।

তারপরও যদি কেউ এ জাতীয় ঘটনা করে থাকে তাহলে বিধিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুত্রঃ যুগান্তর

Categories
দেশের খবর ধর্ম

ময়মনসিংহে ১২০০ বছর পর গায়েবি মসজিদে হঠাৎই আজানের সুর!

ময়মনসিংহে প্রায় ১২০০ বছর পূর্বের গায়েবি মসজিদে হঠাৎই আজানের সুর শুনতে পাওয়া যায়। কিছুদিন আগেও মসজিদটির চারপাশ ঘিরে ছিল জঙ্গল ও জীব-জন্তুর আবাসস্থল। দিন-দুপুরে ভয়ে কেউ যেত না, এটিকে জিনের মসজিদ তথা গায়েবি মসজিদ নামেও ডাকতো সবাই।

জেলার নান্দাইল উপজেলার মুশুল্লী ইউনিয়নের নগরকুচুরী গ্রামে এই গায়েবি মসজিদের অবস্থান।

স্থানীয়রা জানান, তারা তাদের বাপ-দাদার তিন-চার পুরুষেও জানেন না মসজিদটি কীভাবে স্থাপিত হয়েছিল। তবে মুখে মুখে এটি একটি গায়েবি মসজিদ নামেই পরিচিত।

অনেকেই বলছেন আনুমানিক ১২০০ বৎসর পূর্বে এটি স্থাপিত হয়েছে। এটিকে জিনের মসজিদ তথা গায়েবি মসজিদ নামেও সবাই ডাকেন।

কেউ কেউ ধারণা করছেন, ওই গায়েবি মসজিদটি শাহ-সুলতান কমির উদ্দিন রুমী (রা.)-এর সময়কালে তাদের একজনেরই ধর্মীয় উপাসনালয় তথা সাধনার স্থান হিসেবে অলৌকিকভাবে স্থাপিত হয়েছিল মসজিদটি।

কথিত আছে, একজন বাকপ্রতিবন্ধী লোক জঙ্গলের ভিতরে ঢুকে পড়লে মসজিদটির নির্মাণ কাজ দেখতে পায়, তখন সঙ্গে সঙ্গেই সে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। এতে সবাই ধারণা করে যে বাকপ্রতিবন্ধী লোকটি তা দেখে ফেলায় গায়েবি মসজিদের বাকি কাজ বন্ধ করে দেয় জিনেরা।

এরপর বহু যুগ পেরিয়ে গেলেও সেখানে যাওয়ার কেউ চিন্তা করে না। কিন্তু আধুনিক সভ্যতার কারণে ও জনবসতি বৃদ্ধি পাওয়া গাছ-পালা কেটে ফেলে জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়।

ফলে গত কয়েক মাস আগে হঠাৎই আজানের সুর ভেসে উঠে চারিদিকে এবং লোকজন দলে দলে আসে উক্ত মসজিদটিকে দেখতে ও জানতে।

পরে জানা গেছে, গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত অজানা প্রত্নতাত্ত্বিক এই পুরাতন ভবনে নিয়মিত নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করেছেন গ্রামের মানুষ। পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মাসখানেক ধরে উক্ত গায়েবি মসজিদটির সংস্কারসহ মসজিদের পাশেই একটি এতিমখানা (মাদ্রাসা) স্থাপনের কাজ শুরু করা হয়েছে।

দেখা যায়, বহু যুগ আগে প্লেটের মতো ১ ইঞ্চি পুরো ৭-৮ ইঞ্চি বর্গফুটের ইট দিয়ে করা হয়েছে ৩ ফুটেরও বেশি চওড়াবিশিষ্ট প্রতিটি দেওয়াল। যার গায়ে ইসলামী নিদর্শনের বিভিন্ন কারু-শিল্পকর্ম দেখা যায়।

মসজিদটির একপাশে দুটি বড় খোলা দরজা এবং অপর দুইপাশে রয়েছে ছোট ছোট দুটি সুরঙ্গের মতো দরজা। উপরে ছাদ ও ভিতরের মেঝেটি পাকা করা হয়নি।

তবে এরচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ভিতরে প্রবেশের তিনটি রাস্তায় কোনো ধরনের আলাদাভাবে দরজা ফিটিং করার মতো কোনো অবস্থান দেখতে পাওয়া যাইনি।

কিন্তু বর্তমানে এলাকাবাসী মসজিদের পুরাতন দেওয়ালের সঙ্গে ঘেঁষে কংক্রিটের পিলার দিয়ে উপরে টিনের ছাউনি দিয়েছেন এবং মসজিদের ভিতরে ও বাইরে নামাজ আদায় করতে কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে পাকাকরণ করা হয়েছে।

সেখানে এখন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজসহ জুমার নামাজ আদায় করার পাশাপাশি খতমে তারাবির নামাজও আদায় করা হচ্ছে।

উক্ত মসজিদ কমিটির বর্তমান আহ্বায়ক মোখলেছুর রহমান রিপন জানান, সবার সহযোগিতায় মসজিদটিকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পাশাপাশি এখানে প্রায় ৫০ শতক জমি থাকায় বিনামূল্যে ইসলামী শিক্ষাদান হিসেবে এতিমখানা ও নুরানি মাদ্রাসা চালু করা হচ্ছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. ইফতেকার উদ্দিন ভূঁইয়া বিপ্লব জানান, গায়েবি মসজিদটি তথা প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয়টি ধরে রাখতে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় সেখানে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিনের পক্ষ থেকে ঢেউটিন অনুদান পাওয়া গেছে এবং কিশোরগঞ্জের মাওলানা আব্দুল হালিমের সহযোগিতায় কমির উদ্দিন রুমীর (রা.) নামে এতিমখানা ও নূরানি হাফিজিয়া মাদ্রাসা স্থাপনের কাজ চলছে। সুত্রঃ যুগান্তর

Categories
দেশের খবর

বিট কয়েন ব্যবসার মাধ্যমে ফ্ল্যাট-প্লট-সুপার শপ

ছোট্ট একটি দোকানে কাপড় ও খেলনার ব্যবসা দিয়ে শুরু তার কর্ম জীবন। সেখান কম্পিউটার বসিয়ে গড়ে তোলেন বেসিক বিজ মার্কেটিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান। আউট সোর্সিং মার্কেটিংয়ের ওই প্রতিষ্ঠানের আড়ালেই চলছিল তার বিট কয়েন ব্যবসা।

তার নাম ইসমাইল হোসেন সুমন ( ৩২) তবে তাকে অনেকেই চিনেন কয়েন সুমন নামে।

বাংলাদেশে অবৈধ বিট কয়েন ব্যবসার মূলহোতা ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমনের রয়েছে একাধিক ভার্চুয়াল ওয়ালেট। যেখানে মজুদ রয়েছে বিট কয়েনে অর্জিত লক্ষাধিক ডলার। শুধু তাই নয়, বিট কয়েন ব্যবসার মাধ্যমে তিনি গড়েছেন ফ্ল্যাট, প্লট, সুপার শপসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

সোমবার (৩ মে) বিকেল সোয়া পাঁচটায় কারওয়ান বাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব সদর দফতরের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

 

 

তিনি বলেন, রোববার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার বেসিক বিজ মার্কেটিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১-এর একটি দল।

সেখান থেকে বাংলাদেশে অবৈধ বিট কয়েন ব্যবসার মূলহোতা ও অনলাইনে প্রতারণার অভিযোগে ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমনসহ ১২ জনকে আটক করে দলটি।

আটক অন্যরা হলেন- আবুল বাশার রুবেল (২৮), আরমান পিয়াস (৩১), রায়হান আলম সিদ্দিকি (২৮), মো. জোবায়ের (১৮), মেহেদী হাসান রাহাত (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), রাকিবুল হাসান (২৩) রাকিবুল ইসলাম (২২), সোলাইমান ইসলাম (২১), মো. জাকারিয়া (১৮), আরাফাত হোসেন (২২)।

অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে ২৯টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ৩ টি ল্যাপটপ, ১৫টি মোবাইল ফোন, একটি ট্যাবলেট ফোন ও বিবিধ নথিপত্র জব্দ করা হয়।

কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, চক্রটির মূল হোতা ইসমাইল হোসেন সুমন ওরফে কয়েন সুমন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে মাস্টার্স পাশ করেন। এরপর ২০১৩ সালে ছোট্ট একটি দোকানে বাচ্চাদের খেলনা ও কাপড়ের ব্যবসা শুরু করেন তিনি।

র‌্যাবের এই কর্মকর্তা জানান, সেখান থেকেই তিনি শুরু করেন বিট কয়েনের ব্যবসা। বেসিক বিজ মার্কেটিং নামে অনলাইন আউট সোর্সিং প্রতিষ্ঠান। আর এর আড়ালে অবৈধ বিট কয়েন ও অনলাইন বিভিন্ন প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছিলেন সুমন।

ওই ব্যবসার সত্ত্বাধিকারী ও মূলহোতা সুমন শুরুতে একটি ছোট অফিস থাকলেও তা বড় হয়, বাড্ডায় তিনটি ফ্লোরে ৩২ জন কর্মচারী নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি তিনটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।

ভার্চুয়াল ওয়ালেটের মাধ্যমে অবৈধ ও প্রতারণামূলক ব্যবসা বিট কয়েনের মাধ্যমে সুমন বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার ঢাকায় দুটি ফ্ল্যাট, প্লট ও সুপার শপের ব্যবসা রয়েছে।

সুমনের রয়েছে একাধিক ভার্চুয়াল ওয়ালেট। যেখানে বিট কয়েনের মাধ্যমে অর্জিত লক্ষাধিক ডলার মজুদ রয়েছে। গত এক বছরে তিনি বিট কয়েনের মাধ্যমে অবৈধভাবে ১২ থেকে ১৫ লাখ ডলার লেনদেন করেছেন। যা টাকার অংকে ১০ কোটি থেকে সাড়ে ১২ কোটি টাকা হবে।

 

 

ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতিতে জড়িত সুমন

 

আটক ইসমাইল হোসেন সুমন বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ই-মার্কেটিং সাইটে আকর্ষণীয় মূল্যে বিজ্ঞাপন দিতেন। পরবর্তীতে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। কেউ যদি তার পণ্য ক্রয় করতে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতেন তা তিনি তা হ্যাক করতেন ও টাকা আত্মসাৎ করতেন।

র‌্যাবের জানায়, বাংলাদেশে বিট কয়েন নিষিদ্ধ তবে বেশকিছু দেশেই বিট কয়েন বৈধ। সম্প্রতি ভারতে এটা বৈধ করা হয়েছে। সিঙ্গাপুরেও বৈধ। এসব দেশের সঙ্গে লেনদেন রয়েছে বা দেশীয় বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক জুয়ারিদের কাছে বিট কয়েন লেনদেন ও বিক্রি করতেন সুমন।

খন্দকার আল মঈন আরও বলেন, বিট কয়েনের ঘটনায় আটক অপর ১১ জন সুমনের প্রতারণা, জালিয়াতি ও অবৈধ বিট কয়েন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ও সহযোগী। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।